পুষ্টিতে ভরপুর বীজ, তবে খেতে হবে নিয়ম মেনে

এক সময় অবহেলায় পড়ে থাকা বিভিন্ন বীজ এখন ধীরে ধীরে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। তিল, তিসি, চিয়া বা কুমড়োর বীজ—এসবকে এখন পুষ্টিগুণের জন্য বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে না খেলে এসব বীজের উপকার নাও মিলতে পারে, বরং সমস্যা হতে পারে। এমস ও হার্ভার্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেট্টি জানান, সব বীজের গুণ এক নয়।

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ বেছে নেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, যেকোনো বীজ খেলেই উপকার মিলবে— এই ধারণা ঠিক নয়। তিসির বীজের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, এটি সালাদ বা স্মুদিতে সরাসরি খাওয়ার চেয়ে গুঁড়ো করে খাওয়া ভালো। কারণ এর শক্ত খোসা সহজে হজম হয় না। গুঁড়ো করলে তবেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার শরীরে ঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

চিয়া বা তুলসীর বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতার কথা বলেন তিনি। কুমড়া বা সূর্যমুখীর বীজ শুকনা খাওয়া গেলেও এসব বীজ শুকনা খাওয়া ঠিক নয়। পানি বা দুধে ভিজিয়ে খেলে এগুলো নরম হয় এবং হজম সহজ হয়। শুকনা অবস্থায় খেলে পেটে গিয়ে ফুলে উঠতে পারে, এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্য বা পানিশূন্যতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, চিয়া ও তুলসীর বীজ দেখতে একরকম হলেও কাজ ভিন্ন। তুলসীর বীজ পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, আর চিয়া বীজ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়ক।

বীজকে অনেকে কম ক্যালরিযুক্ত মনে করলেও বাস্তবে তা নয়। এগুলো পুষ্টিতে ভরপুর হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে উল্টো সমস্যা হতে পারে। দিনে এক থেকে দুই চামচ পরিমাণ বীজ খাওয়াই যথেষ্ট বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তারা আরও বলেন, বীজ সরাসরি রোগ সারায় না। তবে এতে থাকা ফাইবার ও অন্যান্য উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। তাই বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।

Exit mobile version