স্বামীর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজে কারিশমার সন্তানরা স্বস্তি পেল

বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরেরমৃত্যুর পর তাঁর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি এবং ব্যবসায়িক মালিকানা ঘিরে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব এখন আদালতের দোরগোড়ায়। এই প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সঞ্জয় কাপুরের বিদেশে থাকা সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপাতত নন-অপারেশনাল থাকবে।

ফলে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সাচদেব ওই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোনও ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সঞ্জয় কাপুরের কোনও সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর না করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তাঁর রেখে যাওয়া উইল নিয়ে যে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণের দায়ভারও প্রিয়া সাচদেবের উপরই বর্তায় বলে জানিয়েছে আদালত।

এর আগে সঞ্জয় কাপুরের প্রথম পক্ষের সন্তান সামাইরা ও কিয়ান আদালতে অভিযোগ করেন, তাঁদের বাবার উইল জাল করা হয়েছে এবং সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু মূল্যবান সম্পদও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে, বিবাহ বিচ্ছেদের সময়ই খোরপোশ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থ (প্রায় ৭০ কোটি রুপি) গ্রহণ করায় এই সম্পত্তিতে অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সরাসরি কোনও দাবি নেই বলেই জানা গেছে। তবে আদালতের এই নির্দেশে তাঁর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ অধিকার সুরক্ষিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি এসেছে পরিবারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ মূলত সম্পত্তি সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্যই দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত রায়ের আগে যাতে কোনও পক্ষ সম্পদ সরিয়ে ফেলতে বা বিক্রি করতে না পারে, সেটাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য। ফলে বলা যায়, চলমান এই আইনি লড়াইয়ে আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন সামাইরা ও কিয়ান—এবং পরোক্ষভাবে তাঁদের মা কারিশমা কাপুরও।

Exit mobile version