যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা: প্রধান আসামি জামিনে, পরিবার আতঙ্কে

যশোর শহরের শংকরপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাসেদ আলী পরশ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ৩০ এপ্রিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। প্রধান আসামির এই মুক্তিতে নিহতের পরিবার চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ও মামলার বাদী শামীমা বেগম এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মেয়ে ইলারা খাতুন রাত্রিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামীমা বেগম বলেন, গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে যশোর শহরের শংকরপুরের ইসহাক সড়কে নিজ বাসার সামনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে। ঘটনার পরদিন ৪ জানুয়ারি নিহতের জামাতা বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরসহ কয়েকজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানায়, মূলত সম্পত্তি ও গাড়ির লোভে জামাতা পরশ ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরশসহ গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় প্রধান আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবারটি।

নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, আসামির বাবা একজন আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং আসামি নিজেও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত জামিন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আসামিরা কারাগারে থাকাকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিত। এখন জামিনে বেরিয়ে পরশের বোনসহ বিভিন্ন লোক মারফতে আমাদের প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলমগীরের মেয়ে ইলারা খাতুন রাত্রি তার বাবার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান গণমাধ্যমকে জানান, আসামি জামিনে বেরিয়ে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজন রেদওয়ান হোসেন, মামা এনামুল হক ও তবিবর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Exit mobile version