২০১৩ সালের শাপলা চত্বর অভিযান ২০১৩-এর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কক্সবাজারের রামু উপজেলার এক পরিবারের ক্ষত এখনো শুকায়নি। ওই ঘটনায় নিহতদের একজন বলে দাবি করা হচ্ছে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়াঘোনা টিপাপাড়ার তরুণ মতিউর রহমানকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী মতিউর রহমান ইসলামী মূল্যবোধ সংক্রান্ত দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। ৫ মে রাতের অভিযানের পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, ওই অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন।
মতিউরের বাবা আমানত উল্লাহ বলেন, “এক যুগ পার হয়ে গেল, কিন্তু আমরা এখনো কোনো সঠিক তথ্য পাইনি। ছেলের কথা মনে পড়লে বুকটা ভেঙে যায়। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয়দের মতে, শাপলা চত্বরের সেই রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো হয়নি। অনেকেই মনে করেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর স্থানীয় নেতারা বলেন, এখনো পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো তালিকা বা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। তারা দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষ জানিয়েছে, প্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হবে বলে তারা আশা করছেন।
এক যুগ পরও শাপলা চত্বরের সেই রাত নিয়ে প্রশ্নের অবসান হয়নি। আর উত্তর ও ন্যায়বিচারের আশায় আজও অপেক্ষা করছে মতিউর রহমানের পরিবারসহ অনেক স্বজন।
