নির্দেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে স্থাপনা নির্মাণ ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ঈদগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রশিদ আহমদ (প্রকাশ বাবুল কোম্পানি)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামাবাদ শাহ ফকির বাজার সংলগ্ন রশিদ আহমদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় প্রায় ১ একর জমির ওপর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের নজর পড়ে। বিরোধপূর্ণ ওই জমিটি ঈদগাঁও মৌজার আরএস ৪০৪ নম্বর খতিয়ানের ১৫১৬ ও ১৫১৭ দাগের নামজারি খতিয়ানভুক্ত (নং-১১৩৭৭)। জমিটি রক্ষায় রশিদ আহমদ আদালতে একটি মামলা (নং-১৭০/২৪) দায়ের করেন।
উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল (২০২৫) আদালত উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ (Status Quo) প্রদান করেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতের সেই আদেশ তোয়াক্কা না করে গত ৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিবাদীপক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও মিস্ত্রি নিয়ে এসে জোরপূর্বক টিন ও গাছ দিয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করে। এসময় তারা বাদীপক্ষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয় এবং জমি দখলের হুমকি প্রদান করে।
লিখিত অভিযোগে যাদের বিবাদী করা হয়েছে তারা হলেন— আরিফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, ওবায়দুল এবং মোস্তাক আহমদ (প্রকাশ ফিরোজ)।
ভুক্তভোগী রশিদ আহমদ বলেন, “আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে আমার জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে চক্রটি। তারা আইন-কানুন কিছুই মানছে না। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের মোস্তাক আহমদ (ফিরোজ) অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং নিষেধাজ্ঞা আছে আমরা জানি। তবে যে দাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আমরা সেখানে কাজ করছি না। আমরা ভিন্ন দাগে (৬৩ নম্বর দাগ) কাজ করছি এবং পুরনো দোকানঘরের টিন পরিবর্তন করছি মাত্র।”
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঈদগাঁওতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত