সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, যে কারণে এনসিপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে সেরকম অভিযোগ ছিল বিএনপির চার জনের বিরুদ্ধে। এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের মাধ্যমে ইসি সমতা নিশ্চিতের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) এর ১২ (১) (এইচ) অনুযায়ী সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পরে কেউ নির্বাচন করতে পারবে। ঠিক তেমনিভাবে কোনো বেসরকারি সংস্থা, যারা বিদেশি সাহায্যপুষ্ট, তাদের কেউ এক্সিকিউটিভ পদে থাকলে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন।
এখানে সমভাবে সবার প্রতি আচরণ করা, সমভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না,, সেই প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে জাতীয় নির্বাচনে অনেকে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরেও তাদের মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছিল। এবারও অভিযোগ উঠেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ করলেও আরেকজনের অবৈধ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিধি-বিধান সমভাবে প্রয়োগ করবে, এমনটাই আশা ছিল।
সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরপর একই বা অনুরূপ আইনি অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন বিএনপি মনোনীত চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে ইসিতে অভিযোগ করেছিলেন মনিরা শারমিন। তারা হলেন-মাধবী মারমা, আন্না মিনজ, জিবা আমিন খান এবং ফাহমিদা হক।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হলফনামায় কোনো তথ্য না দিলে তথ্য গোপন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে দায়িত্ব আছে। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা নিয়ে সুজনেরও প্রশ্ন আছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সমভাবে হলফনামা যাচাই-বাছাই করা এবং প্রার্থীরা হলফনামায় সঠিকভাবে তথ্য দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা। আমরা অতীতে দেখেছি অনেক প্রার্থী হলফনামার সঙ্গে আয়কর বিবরণী জমা দেন না। অথচ আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আয়কর বিবরণী না দিলে মনোনয়ন অসম্পূর্ণ থাকে। এই ধরনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।
মূল প্রবন্ধে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে, যা মোট প্রার্থী ২০ শতাংশ। এই ১০ জন ঋণগ্রহীতার মধ্যে কোটি টাকার অধিক ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে ৪ জনের। যারা বিএনপি থেকে নির্বাচিত। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিতদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সুজনের ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী, সজল কোরায়েশী উপস্থিত ছিলেন।
