চুরির অপবাদে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, কিশোরীর আত্মহনন

পাবনার চাটমোহরে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও নির্যাতন করায় অপমান এবং ক্ষোভে শ্রাবন্তী খাতুন নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শ্রাবন্তী (১৪) ওই গ্রামের দিনমজুর আলতাব হোসেনের মেয়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই এলাকার হান্নান মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। হান্নান চিনাভাতকুর গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন মোল্লা ওরফে লকাই মোল্লার ছেলে।

কিশোরীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক ধরে প্রতিবেশী হান্নান মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করত শ্রাবন্তী। গতকাল সকালে হান্নান মোল্লার ঘরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ১২০ টাকা হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শ্রাবন্তীকে হান্নান মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী রুবিয়া খাতুন সন্দেহ করে। এক পর্যায়ে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে শ্রাবন্তীর দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী নির্যাতন চালায় এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করেন।

এ সময় এলাকার অনেকেই মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে অপমান সইতে না পেরে শ্রাবন্তী বাড়ি ফিরে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। শ্রাবন্তীর মা আছিয়া খাতুন ও বাবা আলতাব হোসেন এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। পরে মেয়েকে চুরির অপবাদে মারধরের কথা শুনে বাড়ি ফিরে মেয়েকে আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখেন তারা।

শ্রাবন্তীর মামা সিফাত হোসেন বলেন, ‘হান্নান মোল্লার বাড়ি আর আমার বোনের বাড়ি পাশাপাশি। আমার ভাগনি যদি সত্যিই চুরি করত, তাহলে তার বাবা-মা ছিল। তাদের বলতে পারত। কিন্তু সেটা না করে লোকজন ডেকে সবার সামনে নির্যাতন করায় খুবই অপমানবোধ করেছে আমার ভাগনি। সে জন্য নিজের জীবনটাই দিয়ে দিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হান্নান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Exit mobile version