বৃষ্টি কমে পানি নেমে গেলে ধান তুলতে পারবেন—এমন আশায় ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওরের কৃষকরা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় অতিরিক্ত পানির কারণে সেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন কৃষকরা। পানির নিচে থাকা ধান পচতে শুরু করেছে। পাকা ধানেই চারা গজিয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ধারদেনা করে ফসল ফলানো কৃষকরা বেশ চিন্তিত। একেকজনের লাখ টাকার ক্ষতির মুখে সরকারি সহায়তা বলতে তারা পেয়েছেন ৩০ কেজি করে চাল। কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে আরো সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এমন আশ্বাসে মন ভরছে না কৃষকদের।
বানের পানির সঙ্গে বাড়ছে তাদের চোখের পানি। শনিবার হাওরের কৃষকদের দুর্দশা ঘুরে দেখেন মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমিও কৃষক। ধান পচে যাওয়ার যে কী কষ্ট সেটা কিন্তু আমি বুঝতে পারি।’ পরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘এই ধানগুলো উঠুক, শুকিয়ে যাক। এখন তো ভেজা ধান সরকার নেবে না। সরকার ১২ ভাগ ময়েশ্চারের ওপরে হলে সরকার তা গ্রহণ করে না। ধান শুকানো শেষ হোক। আমরা মাইকিং করে ধান কিনব।’
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি পানিতে পাকা ও আধপাকা ৩০০ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে যায়। আর কেটে আনা ৩২০ হেক্টর জমির ধান বৃষ্টির কারণে পচে নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। ধানি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা মাত্রই আহাদ মিয়া নামে এক কৃষক অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার মেদির হাওরে ধান তোলায় ব্যস্ত আক্কাস মিয়া জানান, চার বিঘা জমির মধ্যে তিন বিঘার ধান তুলতে আনলেও শুকাতে না পারায় পচে গেছে। এক বিঘা জমি এখনো পানির নিচে। জমি কাটতে গিয়ে ধারদেনা করে যে মজুরি দিয়েছেন সেটা পরিশোধেরও ব্যবস্থা নেই এখন।
বিলকিস বেগম নামে এক কৃষক জানান, লিজা, স্বর্ণা ও পাখি নামে তিন কন্যাকে নিয়ে ধান শুকানোর কাজ করছেন। ১৫ কানি জমির মধ্যে পাঁচ কানি জমির ধান তুলতে পারলেও শুকানো যায়নি। বাকি ১০ কানি জমি এখনো পানির নিচে। ধানের এ অবস্থার কারণে টং দোকানী স্বামী ফুল মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসাইন জানান, তিন শ হেক্টর জমি এখনো পানির নিচে। কৃষকরা ওইসব জমি থেকে ধান তুলছেন। তবে আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে না থাকায় ধান শুকাতে পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ কৃষক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
