ওয়াশিংটনের তাইওয়ান বিবৃতি না থাকায় তাইপে নাখোশ

চীন সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। প্রথমদিনের বৈঠকে ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বেশ কিছু দিপাক্ষিক গুরুতপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সবার আগে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু উঠে এসেছে। তাইওয়ান ইস্যু মার্কিন-চীন সম্পর্ক ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ ঠেলে দিতে পারে বলে ট্রাম্পকে সর্তক করেছে শি।

শির এমন বক্ত্যবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে তাইওয়ান। তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের (এমএসি) মুখপাত্র বলেন, ‘বেইজিংয়ের সামরিক কার্যকলাপই এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। তাইওয়ান দাবি করেছে, তাইপের আশেপাশে চীনের সামরিক উপস্থিতি স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করছে এবং প্রণালিজুড়ে উত্তেজনার জন্য বেইজিংই দায়ী। এমএসি মুখপাত্র আরো বলেন, ‘চীনের উচিত তাইওয়ানের ওপর সামরিক হুমকি-ধমকি কমানো।’

দ্বীপ রাষ্ট্রটির চারপাশে প্রায় প্রতিদিনই চীনা সামরিক বাহিনীর তৎপরতার খবর পাওয়া যায়। এটিকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের তৎপরতা হিসেবে দেখে তাইপে। সফর সঙ্গীদের টেম্পল অফ হেভেন পরিদর্শনের সময়, তাইওয়ান নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে কি না, এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে ট্রাম্প কোনো জবাব দেননি। তা ছাড়া হোয়াইট হাউস বৈঠকের বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেয়। যেখানে তাইওয়ানের নাম উল্লেখ ছিল না। এতে তাইপেবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন?

৬২ বছর বয়সী প্রবীণ সৈনিক ভিনসেন্ট লাই বলেন, ‘ট্রাম্প-শি বৈঠক তাইপের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।’ কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করবে কি না। এটিও দর-কষাকষির একটি অংশ হতে পারে। আমি বিষয়টা এভাবেই দেখি বলে যোগ করেন তিনি।

তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকায় বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।

Exit mobile version