চট্টগ্রামে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জনসমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
এর আগে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত উড়ালসড়কের পিলারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে এনসিপির পক্ষ থেকে রাতেই সিটি মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে ‘শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দার’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন। এরপর ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে তার প্রতিবাদ করে লেখাগুলো মুছে দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করে।
আজ সোমবার দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হলে পুলিশি বাধায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুলিশ একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সরে যান।
এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ‘দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী নগরীর টাইগারপাস এলাকায় জুলাইয় গ্রাফিতি আকতে যায়। তারাতো মিছিল-সমাবেশ করতে যায়নি, পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে পরে তাদের ছেড়ে দেয়।
শিক্ষার্থী পরিচয়দানকারী এক নারী বলেন, আমি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গ্রাফিতি আকতে এসেছি। ছাত্রদল-যুবদলদের নেতা কর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নগরীর টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল। তাদের সরে যেতে বললে তারা পুলিশের গায়ে রঙ ছুঁড়ে মারলে কয়েকজন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
