ঈদগাঁওর সামাজিক শিষ্টাচার ও পবিত্রতা বিনষ্ট করে নারীদের নিয়ে অত্যন্ত জঘন্য ও অশ্লীল মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দৃশ্যমান বিকৃত মানসিকতার কিশোরদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচজন কিশোর প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অশ্লীল প্রশ্ন করছে। ঈদগাঁও টিভির অনুসন্ধানে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি সুমন ঈদগাঁও থানা সংলগ্ন ফকিরা বাজার এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া অভিযুক্ত আরিফ ও ইমন চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুরিয়াঘোনার এবং বাপ্পি খুটাখালীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অপর এক সদস্যের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কেবল অনলাইনে নারীদের সম্মানহানিই করছে না, বরং তারা ঈদগাঁওর অলিগলিতে মাদক ব্যবসা, ইয়াবা সেবন, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের দৌরাত্ম্যে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “এরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে এমন অশ্লীল মন্তব্য করার সাহস পায় কীভাবে?” সাইবার অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার সাথে সাথেই পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ঈদগাঁওর আপামর জনসাধারণ। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর অবস্থানে থাকে।
নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: ঈদগাঁওয়ে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত