দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ভারতের পর্যটন ভিসা চালুর খবরে খুশির হাওয়া বইছে কলকাতায়। গত বৃহস্পতিবার এই ভিসা চালুর ঘোষণা দেন ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আর তাতেই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা।
মারকুইস স্ট্রিট, টটি লেন, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, কিড স্ট্রিট, রয়েড স্ট্রিট, কলিন লেন, লিন্ডসে স্ট্রিটসহ নিউমার্কেট এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী, পোশাক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, মোবাইলের সিম বিক্রেতা, এমনকি হাতে টানা রিকশাচালক ও ফলের দোকানদার—সবাই আশাবাদী, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে কলকাতা নিউমার্কেট।
নিউমার্কেটের অত্যন্ত পরিচিত কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক বলেন, গত দুই বছরে নিউমার্কেটের ব্যবসা ৬০ শতাংশ কমে গেছে। আমরা আশা করছি ভারতের এই সিদ্ধান্তে নিউমার্কেট আবার তার প্রাণ ফিরে পাবে। কারণ এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন, অনেকে কাজ হারিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিরা আমাদের কাছে মেহমান। তাদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আমরা চাই তারা নিশ্চিন্তে কলকাতায় আসুক।
নিউমার্কেটের একটি পরিচিত দোকান গ্লোব ফার্মেসি। সেই দোকানের কর্মী কুসুম জানান, ‘বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর আমাদের ব্যবসা নির্ভর করে। তারা মূলত ওষুধ, কসমেটিক্স ও ড্রাই ফ্রুটসের জন্য আমাদের দোকানে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেটা বন্ধ ছিল। অনেক দিন ধরেই শুনছি ভিসা স্বাভাবিক হবে, অবশেষে সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুশি।
মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ সাহা বলেন, দুই বছর ধরে আমরা অনেক অসহায় অবস্থায় ছিলাম। সেই অবস্থা কাটতে চলেছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আমরা সকলকে আহ্বান জানাবো, বাংলাদেশি পর্যটকদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে আমরা যাতে আগের অবস্থানে পৌঁছাতে পারি।
শুধু নিউমার্কেটই নয়, কয়েক মাস ধরে একই দৃশ্য দেখা গেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোলেও। ভিসা চালুর এই নতুন সিদ্ধান্তে সেখানেও স্থবিরতা কেটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
