কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত কিশোরী প্রেমিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিয়ামের বন্ধু আরিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহান (১৫) সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ভোরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈমা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে একাধিক আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে সিয়াম ও নাঈমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, গর্ভধারণ এবং পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বিভিন্ন বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয় এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা ঢাকায় একাধিকবার একসঙ্গে অবস্থান করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি গর্ভধারণ, বিয়ে এবং অর্থসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে নাঈমা সিয়ামের বাড়িতে আসেন। ওই রাতে একই কক্ষে সিয়াম, নাঈমা ও সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান অবস্থান করছিলেন। ভোরে নাঈমাকে দ্রুত বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে নাঈমা ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ। সিয়ামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাসপাতালে পাঠান এবং নাঈমা ও আরিয়ানকে আটকে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করে। পরে অভিযুক্ত কিশোরীকে গ্রেফতার এবং আরিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
