সরকারি চিকিৎসক না হয়েও সদর হাসপাতালে প্র্যাকটিস, ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীও টানেন

চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসক না হয়েও বিশেষ সুবিধায় প্র্যাকটিসের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন বছর ধরে হাসপাতালের একটি এসি কক্ষে তিনি রোগী দেখছেন এবং সেখান থেকেই নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী টেনে নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দা ডা. ফারুক হোসেন এমবিবিএস পাস করেছেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ থেকে। সদর হাসপাতালের সামনেই তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার রয়েছে। তিনি সরকারি কোনো চিকিৎসক নন। এমনকি তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকও নন। অথচ তৎকালীন আ.লীগ এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দারের নির্দেশনায় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে তিনি এখানে রোগী দেখে যাচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে জেলার বেসরকারি চিকিৎসকেরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বিবেচনায় বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও শুধু ফারুক হোসেনই এ সুযোগ পেয়েছেন।

শুধু তাই নয়, সদর হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি চিকিৎসক ডা. ফারুক হোসেনকে একটি এসি কক্ষ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ ব্যবহার করে তিনি সদর হাসপাতাল থেকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বার ‘লাভলী টাওয়ারে’ রোগী নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানান, ‘ফারুক হোসেন তো ব্যবসা করছেন। তিনি তাঁর নিজের হাসপাতালে রোগী টানার জন্য সদর হাসপাতালকে ব্যবহার করছেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে বাজে আচরণও করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফারুক হোসেন নিজের পক্ষে কথা বলেন। কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও তিনি দাবি করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক স্যারের লিখিত অর্ডার আছে।’ লিখিত চিঠির কপির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি আসবেন? আপনি আসেন, আপনাকে দেখাব। দেখানোর আগে আপনাকেও তো দেখতে হবে।’

 

বাংলা ম্যাগাজিনএআর

Exit mobile version