বসতঘর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে পুলিশ হেফাজতে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘর থেকে পুলিন মিস্ত্রি (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচশতকুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা পুলিন মিস্ত্রির ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। একই ঘরে তার ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকেও অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা পবিত্রকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিনের মরদেহের খবর পুলিশকে জানান।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিন মিস্ত্রির স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি পুনরায় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে ছেলে পবিত্রের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পারিবারিক কিংবা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে পবিত্র মিস্ত্রির দাবি, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তার দাবি, দুর্বৃত্তরা চেতনানাশক স্প্রে করে তার বাবার কাছে থাকা জিনিসপত্র নিতে চেয়েছিল। জিনিসপত্র না দেওয়ায় তারা তার বাবাকে হত্যা করে এবং তাকে অন্য একটি ঘরে আটকে রাখে। তবে তার এ দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী ও মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন ঘটনাটি তদন্ত করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের ছেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহতের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে পুলিন মিস্ত্রির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Exit mobile version