লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার ১৮ আগস্ট সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আফরোজা বেগম (১৮) উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে নিথক গ্রামের দীন ইসলাম (২৪)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরের কোনাবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় আফরোজাকে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের দাবি, গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে দীন ইসলাম ফোন করে আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে চিকিৎসার জন্য টাকা চান। টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ার পর তিনি আফরোজার মৃত্যুর খবর দেন।
সোমবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে নিথক গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। স্থানীয়দের দাবি, একটি গাড়ি থেকে মরদেহ বাড়ির উঠানে নামিয়ে রেখে দীন ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন চলে যান। পরে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের বাবা আলফেস আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় বিচার দাবি করেন।তবে দীন ইসলামের দাবি, আফরোজা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি নথি পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে স্বজনরা আঘাতের চিহ্নের অভিযোগ করায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
