প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথে উখিয়ার ২১০ নারী-পুরুষ

কক্সবাজারের উখিয়ায় দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাউস ওয়্যারিং ও সেলাই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এক মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে ১৮০ নারী ও ৩০ পুরুষসহ মোট ২১০ জন অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সেলাই মেশিন ও ইলেকট্রনিকস টুলস দেওয়ার কথা রয়েছে।

‘দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬’-এর আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ উখিয়া এডিপি এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সকালে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকার কবির ম্যানসনে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কারিতাসের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক চয়ন এইচ. রিবেরো। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ উখিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার খ্রীষ্টফার কুইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, কারিতাস কক্সবাজারের ইআরপি প্রকল্প পরিচালক লিটন গোমেজ ও কারিতাসের প্রোগ্রাম অফিসার এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী।

বক্তব্য দেন রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কক্সবাজারের এডুকেশন স্পেশালিস্ট তপতি সরকার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ উখিয়ার চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার লিজা সরকার, কারিতাস চট্টগ্রামের টিও-এমটিটিপি সাইদুল ইসলাম এবং কারিতাস আরটিএস চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল জুয়েল চাকমা। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মনোয়ারা বেগম ও আরফাত হোসেন।

আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সেলাই মেশিন ও ইলেকট্রনিকস টুলস দেওয়া হবে। এসব সরঞ্জাম কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে পারবেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের কয়েকজন জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান। সেলাই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীরা বাড়িতে বা স্থানীয়ভাবে সেলাইয়ের কাজ করতে চান। আর হাউস ওয়্যারিং প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় পর্যায়ে কারিগরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আয় করতে চান।

আয়োজকেরা বলেন, উখিয়ার বেকার নারী-পুরুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করে নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

Exit mobile version