জাতীয়

মিথ্যা আশ্বাস দেব না, হাম নিয়ন্ত্রণে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক করলেও হুট করে আগামী সপ্তাহেই হাম বন্ধ হয়ে যাবে-এমন মিথ্যা আশ্বাস আমি কাউকে দেব না। কোনো দায়িত্বশীল চিকিৎসক বা বিজ্ঞানীও এমন আশ্বাস দেবেন না। হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আজ বুধবার শিশুদের হাম নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একবার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। শিশুদের হাম থেকে রক্ষা করতে হাসপাতালের শয্যা, আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রতিরোধের দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার বিকল্প এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের জানা নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইমিউনাইজেশন ব্যবস্থায় যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই এই প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি। এখন টিকার কভারেজ বাড়াতে হবে। আমাদের চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা।’প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সময়মতো টিকা আনা এবং ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচি যথাসময়ে করতে না পারার মতো একাধিক কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সীমিত জনবল নিয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপক কাজ করছেন।

‘টিকা দেওয়ার জন্য আমাদের মাঠকর্মী থাকার কথা ৪০ হাজার। বর্তমানে আছেন ২৫ হাজার। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ জনবল কম। কিন্তু যারা আছেন, তাঁরা ২০০ শতাংশ পরিশ্রম করেছেন। গ্রাম-গঞ্জ, চরাঞ্চল—সাইকেল ও নৌকায় করে তাঁরা টিকা পৌঁছে দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের বিবেচনায় এটি একটি বিশাল ইমিউনাইজেশন ক্যাম্পেইন’-উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ত্যাগ ও কর্মস্পৃহাকে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ঘাটতি, সেটা মূলত সংখ্যার ঘাটতি। যেখানে ১০ জন ডাক্তার দরকার, সেখানে আছে পাঁচজন। যেখানে ৪০ হাজার টিকাদান কর্মী দরকার, সেখানে আছে ২৫ হাজার। এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।’

দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে বৃহত্তর বৈশ্বিক মহামারি প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর মতো মহামারি মানুষের জীবদ্দশায় আগে খুব কমই দেখা গেছে। প্রযুক্তির পরিবর্তন, জীবাণুর পরিবর্তন, মানুষের জীবনযাত্রা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ভ্রমণ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘গ্লোবাল হেলথে এখন নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি হচ্ছে প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস। পৃথিবীর সব দেশকেই স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে, যাতে পরবর্তী মহামারির সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়তে না হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঠেকানো যায়,’ বলেন তিনি।

 

বাংলা ম্যাগাজিনএআর

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button