রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মুদি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪৬)কে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসময় ‘মোর ছইলটাক আর মারেন না, মোকে মারি ফালাও’-সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন আজুবা বেগম। কিন্তু মায়ের সেই আকুতি উপেক্ষা করে তাঁর সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত মিজানুর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বাড়ির পাশে পোড়ারহাট বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে মিজানুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে মিজানুরের পায়ে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিজানুরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে এ ঘটনায় মিজানুর তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। জিডি করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে দোকানের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল লোক তাঁদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০-১২ জন ব্যক্তি বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাঁকে ভ্যান থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়।
এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে মা আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করতে থাকেন। কিন্তু তাঁকে টেনে সরিয়ে দিয়ে মিজানুরকে আবারও কোপানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বাংলা ম্যাগাজিনএআর
