পাকিস্তানি টিকটকার আয়েশাকে গুলি করে হত্যা, আর্থিক বিরোধের জেরে খুনের অভিযোগ

পুলিশের কাছে আয়েশার বাবা ফজল সাহিবজাদা জানান, ঘটনার আগে কাশিফ নামে এক ব্যক্তি, যিনি ‘কাশি’ নামেও পরিচিত, আয়েশাকে ফোন করেন। ফোনে তাকে দ্রুত বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়। এরপর আয়েশা তার ১৫ বছর বয়সি ছোট বোন আসিমা এবং ভাই নাইমাতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ির বাইরে বের হন।

কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আয়েশাকে গুলি করা হয়েছে এবং তার ছোট বোনও গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফজল সাহিবজাদা দ্রুত তক্ষশীলার তেহসিল হেডকোয়ার্টার্স বা টিএইচকিউ হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন।

ফজল সাহিবজাদার অভিযোগ অনুযায়ী, তক্ষশীলার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুই অজ্ঞাতপরিচয় মোটরসাইকেল আরোহী তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির একটি আয়েশার ঘাড়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গুলিবর্ষণের পর গাড়ির চালক নাইমাতুল্লাহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেলে আয়েশার ছোট বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেই ফুটেজে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সি বলে ধারণা করা দুই ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য বের করতে তদন্তকারীরা ফুটেজটি পর্যালোচনা করছেন।

ফজল সাহিবজাদা পুলিশের কাছে দেয়া বক্তব্যে আরও জানান, তার মেয়ে কওসর এবং জাভেদ ওরফে শাহিন নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক বিরোধে জড়িত ছিলেন। টাকা ফেরত দেয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে ওই দুজনের কাছ থেকে আয়েশা আগে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ইসলামাবাদে ওই দুজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

আয়েশার বাবা অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার ছেলে নাইমাতুল্লাহ হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারবেন বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

পুরো ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তানি পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Exit mobile version