হরমুজকে ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ বললেন ট্রাম্প

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার এক নির্বাচনী সমাবেশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে আরও বোমা হামলার বিষয়ে রসিকতাও করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ওই সমাবেশে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার ভূখণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আদৌ জিতেছি কি না, সেটিও জানি না। কারণ, আমি এখন হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবেই দেখি।’হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করলেন। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ওমান-দুই দেশের মধ্যবর্তী এই জলপথ ইরানের তেল রপ্তানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার জানিয়েছে, অবরোধ মেনে চলার জন্য এ পর্যন্ত ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের চলাচলের পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে।তবে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখার দাবি নতুন নয়। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প এমন ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, কার্যত এটিই এখন বাস্তবতা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অবরোধ দিয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হতে পারছে না।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

শুক্রবারের সমাবেশে ইরান নিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘শুক্রবার রাত। আমাদের হাতে প্রচুর সময় আছে।’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাকে আর কী করতে হবে? ইরানে গিয়ে আরও একটু বোমা ফেলতে হবে?’

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। সংঘাত শুরুর প্রায় ছয় মাস হতে চললেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি নেই।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

Exit mobile version