কলেরামুক্ত নিকুঞ্জ গড়তে ১২ দিনের টিকাদান উৎসব: জাহিদ ইকবাল করলেন উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কলেরার ঝুঁকি মোকাবিলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-টানপাড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে ওরাল কলেরা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৮টায় নিকুঞ্জ-২-এর জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বরে কিশোর মুত্তাকিনকে টিকার ডোজ খাওয়ানোর মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। একনাগাড়ে আগামী ১২ দিন এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সহসভাপতি মো. মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ এম আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, দপ্তর সম্পাদক ডা: আতিকুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেন, লিটু আহমেদ লিটন, তাসবির ইকবালসহ সোসাইটির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের চলমান Preventive Oral Cholera Vaccination (POCV) Campaign 2026-এর আওতায় এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটির সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।

সরকারি কর্মসূচির আওতায় ঢাকার সাতটি থানা এলাকার পাশাপাশি দেশের কয়েকটি নির্বাচিত উপজেলাও এ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

ঢাকার অন্তর্ভুক্ত থানাগুলোর মধ্যে খিলক্ষেতও রয়েছে। ফলে নিকুঞ্জ-টানপাড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জাহিদ ইকবাল চত্বরে আয়োজিত এ কার্যক্রমটি সরকারি প্রতিরোধমূলক টিকাদান কর্মসূচির স্থানীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কর্মসূচিতে দুই ডোজের মাধ্যমে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষ এ টিকা নিতে পারবেন। এর মধ্যে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের এ কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়নি।

কলেরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো একটি তীব্র সংক্রামক রোগ। Vibrio cholerae নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রচণ্ড পানির মতো পাতলা পায়খানা ও বমি হতে পারে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে শরীর থেকে বিপুল পরিমাণ পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে গুরুতর পানিশূন্যতা জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কলেরা প্রতিরোধে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা জরুরি।

কোনো ব্যক্তির তীব্র ডায়রিয়া বা বারবার বমি হলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় তরল দিতে হবে। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জাহিদ ইকবাল চত্বরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নিকুঞ্জ-টানপাড়ায় কলেরা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগের সূচনা হলো। আগামী ১২ দিন ধরে চলা এ কর্মসূচিতে এলাকার টিকা নেওয়ার উপযোগী বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।

সোসাইটির পক্ষ থেকে নিকুঞ্জ, টানপাড়া, জামতলা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের পরিবারের টিকা নেওয়ার উপযোগী সদস্যদের নিয়ে জাহিদ ইকবাল চত্বরে এসে বিনামূল্যে কলেরার টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Exit mobile version