রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ২০ বছরে গড়ানোর শঙ্কা, মিয়ানমারেই সমাধান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ১০ বছর যেন ২০ বছরে পরিণত না হয় সেই শঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ রোববার ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরে : মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই শঙ্কার কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো– রাখাইন রাজ্য অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জন্মভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এটি কেবল কোনো কূটনৈতিক পথ নয়, এটিই সামনে এগোনোর একমাত্র টেকসই উপায়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউ‌রোপীয় ইউ‌নিয়‌নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইনসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

​পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবুও আমাদের মূল নীতি একই, দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক– উভয় আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের একটি সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

তি‌নি ব‌লেন, তবে মানবিক উদরতাকে যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত না বানানো হয়। বাংলাদেশ আশ্রয় দিতে পারে, মানবিক সহায়তা দিতে পারে, তাদের মর্যাদা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে; কিন্তু বাংলাদেশ একা এমন একটি সংকটের সমাধান করতে পারে না, যা বাংলাদেশের তৈরি নয়।
রো‌হিঙ্গা‌দের অর্থায়ন ক‌মে যাওয়া প্রসঙ্গে শামা ওবা‌য়েদ ব‌লেন, অর্থায়ন দিন দিন কমছে, অথচ চাহিদা বেড়েই চলেছে। ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হয়েছে। অথচ মানবিক প্রয়োজন রয়ে গেছে অ‌নেক।

তি‌নি ব‌লেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দু’দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ গঠনমূলক আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক মাধ্যম, জাতিসংঘ, আঞ্চলিক ব্যবস্থা এবং আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাব।

Exit mobile version