মানিকগঞ্জে সওজের নামে চাঁদাবাজি, চালককে পিটিয়ে স্কেল ভাঙচুর: নেপথ্যে কী?

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অস্থায়ী বেরিয়ার গেটে ট্রাকচালকের কাছে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা বেরিয়ার গেট ও পাশের অফিসঘর ভাঙচুর করেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মানিাগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ট্রাকচালক ইউনুস আলীকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেরিয়ার গেট কর্তৃপক্ষ।

ট্রাক মালিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় সওজের ওজন পরিমাপক স্কেল রয়েছে। অথচ নয়াকান্দিতে ওই স্কেলের শাখা পরিচয়ে ট্রাক থামিয়ে নিয়মিত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তাঁদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে সিংগাইরের দিকে যাওয়ার পথে ট্রাকচালক ইউনুস আলীর গাড়ি নয়াকান্দির বেরিয়ার গেটে থামানো হয়। সেখানে সুপারভাইজার নাসির ও তাঁর সহকারী রানা চালকের কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির নেতাসহ ট্রাক মালিক ও চালকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বেরিয়ার গেট ও অফিসঘর ভাঙচুর করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ট্রাকচালক ইউনুস আলী বলেন, “ট্রাকে পণ্য নিয়ে সিংগাইর যাওয়ার পথে নয়াকান্দিতে গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করা হয়। আমার আগের গাড়ি থেকেও ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি টাকা না দেওয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলি হয়ে হেমায়েতপুর ঘুরে সিংগাইর যেতে বলা হয়। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করা হয়।”

ট্রাক মালিক সমিতির নেতা রাসেল মিয়া ও আব্দুর রহমান বলেন, “স্কেল বসানো হয়েছে বাথুলিতে। অথচ নয়াকান্দিতে আমাদের গাড়ি থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। চালকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। আজ আমাদের এক চালককে মারধর করা হয়েছে। কিছু বললেই বলা হয়, আমরা বিএনপি নেতা রফিক উদ্দিন ভূইয়া হাবুর লোক। এসবের প্রতিবাদেই গাড়ির মালিক হিসেবে আমরা সবাই মিলে অফিসটি ভেঙে দিয়েছি।”

তবে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নয়াকান্দির বেরিয়ার গেটের সুপারভাইজার নাসির। তিনি বলেন, “গাড়িচালকের কাছে চালান দেখতে চাইলে তিনি খারাপ আচরণ শুরু করেন। ওভারলোড থাকায় তাঁকে স্কেল ঘুরে হেমায়েতপুর হয়ে যেতে বলা হলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তাঁকে মারধর করা হয়নি।এখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজিও করা হয় না।”

এদিকে বাথুলি ওজন স্কেলের ঠিকাদারের প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, “এখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা হয় না। সরকারি নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ট্রাকচালককে মারধর ও বেরিয়ার গেট ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।”

Exit mobile version