জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমাদের আন্দোলনটা ছিল যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলন। আমরা ওই সময় বলেছিলাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার ভাই-বোন এবং শারীরিকভাবে যাদের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে—এ ধরনের কিছু স্টেকহোল্ডারের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কিছু কোটা রাখা উচিত। আমরা তখন এ প্রস্তাব দিয়েছিলাম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, সমতলের মানুষ পুরো শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে চাকরি জীবন, বসবাস- সবকিছুতে অনেক সুবিধা পান। সমতলের তুলনায় পাহাড়ের মানুষের কষ্টটা অনেক বেশি। সে জন্য তাদের একটা যৌক্তিক মাত্রায় অগ্রাধিকার থাকতে হবে।
এ সময় বিএনপির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের আমলে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারা নির্যাতিত হয়েছিল, সেই একই ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি এখন তারা চর্চা শুরু করেছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে সরজিস বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিলিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে বিদ্যুৎ, উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহনসহ দেশের প্রায় সব খাত জড়িত। এতে মানুষের জীবন ধীরে ধীরে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মানুষ টাকা দিয়েও সার পাচ্ছে না, মূল্য পরিশোধ করেও বিদ্যুৎ-গ্যাস পাচ্ছে না। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সারজিস বলেন, ছয় মাসে বিএনপি লক্ষ্যের কাছাকাছি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি; বরং অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। তবে এ সময়ে তারা একটি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে চাঁদাবাজির। তার দাবি, কয়েক লাখ মানুষের পেশা হয়েছে চাঁদাবাজি।
তিনি বলেন, এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মধ্য দিয়ে বিএনপির মাধ্যমে বাংলাদেশের আগের রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, বিএনপি মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই জায়গায় ফিরে গেছে।
বিএনপিকে সতর্ক করে সারজিস বলেন, তারা বিরোধী দল হতে পারেন এবং বিএনপির ভালো কাজকে ভালো বলার পাশাপাশি সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা করবেন। সমালোচনা করলে চোখ তুলে নেওয়া কিংবা রক্তাক্ত করার হুমকি দিলেও তারা পিছপা হবেন না। বাংলাদেশের মানুষ বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেনি। যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই মানুষ এই জুলুম বেশিদিন সহ্য করবে না।
বিএনপিকে দ্রুত ‘হেদায়েতের পথে’ ফিরে এসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, পাহাড়ের মানুষ এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রাখা প্রয়োজন। কারণ সমতলের মানুষের তুলনায় পাহাড়ের মানুষ শিক্ষা, চাকরি, বসবাস ও পারিবারিক জীবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন।
তবে এই কোটা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রাপ্য ব্যক্তিকে সুযোগ না দিয়ে একটি সিন্ডিকেট নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে ‘দলীয় কোটা’ চালুর অভিযোগ করেন সারজিস। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা বা পদ-পদবি থাকলে জেলা পরিষদে থাকা যাবে এটাই যেন এখানকার কোটা।
এ ধরনের দলীয়করণের ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও প্রত্যাশা থেকে তারা বঞ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ গঠনে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন সারজিস।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেকটি জায়গায় এ ধরনের দলীয়করণ বিএনপির জন্য কিংবা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’
সভায় খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
