ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বসবে। সংসদের এই অধিবেশনটি রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিরোধী দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও তারা সরব হতে পারেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে সরকার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। দেশ গঠনে তাদের কোথায় দুর্বলতা তা আমরা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার তা করা হবে। কারণ জনগণের কাছে এজন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
বিরোধী দলের এ ধরনের অবস্থান প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে, ইস্যু উত্থাপন করবে এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোয় বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।
অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়। বিশেষ করে ফার্মগেট, বাংলামটর, বিজয় সরণি, শ্যামলী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
