রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: ইয়াবা সেবনের সময় ধরা পড়ার ভয়ে খুন

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে একটি শ্মশানে গিয়ে সেখানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসকে বললেন, ‘দাদা- আমাকে একটু পানি দাও, আমাকে একটু আশ্রয় দাও; আমিতো গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে চলে আসছি এভাবেই বলল রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার আসামি মুগ্ধ দাস।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।

পুলিশ জানায়, রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরের দিকে পুলিশ যখন মুগ্ধ দাসের বাড়িতে অভিযানে যায়, তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মুগ্ধ। পরে তাকে ধাওয়া করলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জ-দখীগঞ্জ শ্মশানে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন মুগ্ধ। এ সময় শ্মশানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসের কাছে ওই চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মুগ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, বিদ্যুৎ দাস শ্মশানের গার্ড। তিনি একাই থাকেন শ্মশানে। বিদ্যুৎ দাসের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনিও আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে প্রথমে তাকে এবং পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যেরও মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সিদ্ধার্থ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে দেন এরপর দুজন দুই দিক থেকে গামছা টানলে তার মৃত্যু হয়।

গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করলে মুগ্ধ প্রীতিলতার গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ আগামীকে গলা চেপে ধরে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরে আসামিরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ও আলমারি এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ডাকাতির মতো দেখানোর চেষ্টা করেন। সেখানে পরিবারের এক শিশুকে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন তারা। শিশুটি সিদ্ধার্থকে চিনে তার নাম ধরে ডাকায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Exit mobile version