সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে মজুদের হিসাব ও প্রকৃত খাদ্যশস্যের পরিমাণ যাচাই করতে গিয়ে গরমিলের তথ্য পাওয়ার পর গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল। কাগজপত্রে মজুদ দেখানো প্রায় ১১০ টন চাল ও ২০ টন গম গুদামে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামটি সিলগালা অবস্থায় দেখা যায়। এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল গুদামটি পরিদর্শন করে। পরে দাপ্তরিক নথিপত্র ও মজুদের হিসাব যাচাই-বাছাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলার সব উপজেলা খাদ্য গুদামে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার ঢাকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে যায়। তারা গুদামের মজুদ করা খাদ্যশস্যের হিসাব, খাতাপত্র ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রকৃত মজুদ যাচাই করেন।
এ সময় কাগজপত্রে ১১০ টন চাল ও ২০ টন গম মজুদ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সরেজমিনে ওই পরিমাণ খাদ্যশস্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে সূত্রটি জানায়। তবে এ গরমিলের প্রকৃত কারণ এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা বিশেষ অডিট ও পরবর্তী যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, অডিট কার্যক্রম চলমান থাকায় হিসাবের গরমিল, তথ্যগত অসংগতি বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার বলেন, বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলমান থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে।
তিনি বলেন, দাপ্তরিক হিসাব নিরীক্ষা ও প্রকৃত মজুদ যাচাইয়ের সুবিধার্থে গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। অডিট ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হলে সিলগালা খুলে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
