ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা যদি ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত হতে পারি, তাহলে আমাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে।
তিনি বলেন, ছাত্রজীবন হচ্ছে নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের নিজেদের আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ঐতিহাসিক শহীদ ওসমান হাদী চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় বর্তমান ও সাবেক নেতা বক্তব্য দেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে চরমোনাই পীর বলেন, তোমরা নিজেদের তৈরি করো। দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনার সমন্বয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়; এটি একটি আদর্শিক আন্দোলনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা যদি নিজেদেরকে ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারি, তাহলে আমাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, আপনারা গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করুন এবং জুলাই সনদের যে অঙ্গীকার করে এসেছেন, সে অঙ্গীকার পূরণ করুন। যদি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।
তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তারা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘ পথচলা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ছাত্রসমাজ থেকেই। তাই শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আদর্শিক চেতনায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ছাত্রসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা অর্জন এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করিম মারুফ, উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল করিম আকরাম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ বি এম জাকারিয়া এবং ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীল প্রমুখ।
