জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

গতকাল শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার হিসাবে ২০২০ সালের ১ অগাস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আইরিন খান। এই পদে কাজ করা প্রথম নারী তিনি।

গেল ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

২০০১ সাল থেকে আট বছর মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ল’ স্কুলের ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করা আইরিন খান যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৫ সময়ে।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে কর্মজীবন শুরু করে সেখানে ২১ বছর কাজ করেছেন তিনি, দায়িত্ব পালন করেছেন সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন দেশে। ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন।

বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসাবেও আইরিন খান দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যও ছিলেন তিনি।

তিনি পড়াশোনা করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে।

মানবাধিকারের লড়াইয়ে অবদানের জন্য ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন আইরিন খান।

Exit mobile version