ডিমলায় জামায়াতের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধ এবার প্রকাশ্য উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাফিজুল ইসলাম হাফিজ নিজামীকে হামলা ও নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মসিউর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, মসিউর রহমানের ভাই এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে পরিচিত লিটনসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাফিজ নিজামীকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ডিমলার ডাঙ্গারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হাফিজ নিজামীকে একটি ফার্মেসিতে নিরাপদে রাখেন এবং মসিউর রহমানসহ তার অনুসারীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে অতিথি করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে মসিউর রহমানের সঙ্গে ওই যুবকের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় ডাঙ্গারহাট বাজারের একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বারে হাফিজ নিজামীর সামনে ওই যুবককে ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দেন মসিউর রহমান এমন অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় হাফিজ নিজামী জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে মসিউর রহমানের সঙ্গে তারও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হাফিজ নিজামীর অভিযোগ, পরে মসিউর রহমান তার ভাই এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে পরিচিত লিটনসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে সেখানে আসেন। এ সময় লিটনসহ কয়েকজন তাকে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে হামলা ও নির্যাতনের চেষ্টা চালান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাফিজ নিজামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন। খবর পেয়ে ডাঙ্গারহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা মসিউর রহমানসহ তার অনুসারীদের সরিয়ে দিয়ে হাফিজ নিজামীকে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে নিরাপদে রাখেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মসিউর রহমান বলেন, “সাধারণ লোক উনার ওপর চড়াও হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে নেই। ঘটনাস্থলে ছিলাম এমন কোনো ছবি দেখাতে পারবেন?”

অন্যদিকে মো. হাফিজুল ইসলাম হাফিজ নিজামী বলেন, “মসিউর রহমান ও তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা লিটনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী নিয়ে আমার ওপর হামলা ও নির্যাতনের চেষ্টা করেছেন।”

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং হামলার চেষ্টা হয়েছিল কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

Exit mobile version