মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধানে শক্তিশালী নতুন মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ উৎক্ষেপণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে টেলিস্কোপটি মহাকাশে পাঠানো হয়। প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য—ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।
এ ছাড়া বিশাল পরিসরে মহাকর্ষের আচরণ পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে বের করতেও কাজ করবে রোমান টেলিস্কোপ।
উৎক্ষেপণের আগে আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার আকাশের মধ্যেই রকেটটি সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
রোমান টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের ‘ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট ২’ নামের একটি কক্ষপথে যাবে। সেখানে পৌঁছে এটি পাঁচ বছর মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে। তবে নাসার তথ্য অনুযায়ী, টেলিস্কোপটিতে আরও পাঁচ বছর কাজ করার মতো জ্বালানি থাকতে পারে।
রোমান টেলিস্কোপকে ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপণ করা হাবল এবং ২০২১ সালে মহাকাশে পাঠানো জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাসার বিজ্ঞান মিশন ডিরেক্টরেটের প্রধান নিকোলা ফক্স বলেন, হাবল ও জেমস ওয়েব যেন মহাবিশ্বকে একটি ছোট জানালা দিয়ে দেখেছে, আর রোমান টেলিস্কোপ সেই জানালার দরজাই খুলে দেবে।
রোমান টেলিস্কোপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর বিশাল পরিসরে মহাকাশ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা। নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাবলের মতোই এর ছবি তোলার ক্ষমতা ও সূক্ষ্মতা রয়েছে, তবে এটি অনেক দ্রুত বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
মহাবিশ্বের বড় ছবি দেখবে রোমান
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মূলত মহাবিশ্বের অনেক দূরের ও প্রাচীন বস্তু অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। অন্যদিকে রোমান টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হলো বিশাল এলাকার ছবি একসঙ্গে ধারণ করা।
নাসা বিষয়টি বোঝাতে রোমানকে ক্যামেরার ‘ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স’ এবং জেমস ওয়েবকে ‘জুম লেন্স’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে।
রোমান টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরিতে সহায়তা করবে। এর প্রধান জরিপে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে এবং এতে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে মহাবিশ্ব ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। তবে ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, এই প্রসারণের গতি কমছে না, বরং আরও বাড়ছে।
এই দ্রুত প্রসারণের পেছনে ‘ডার্ক এনার্জি’ নামে একটি অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের বিশাল অংশজুড়ে থাকা আরেক রহস্যময় উপাদান ‘ডার্ক ম্যাটার’ নিয়েও এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ এসব রহস্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
