সংসদে সৌহার্দ্য দেখছেন আইপিইউ প্রতিনিধিরা: চিফ হুইপ

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত দু’টি অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দল যেভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সংসদে ভিন্নমত থাকা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং সেই ভিন্নমতের ভিত্তিতেই দেশের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব।সোমাবর (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ক্রিস্টিনা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আইপিইউ প্রতিনিধিরা সেটি ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। সংসদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের যে চেষ্টা করছে, সেটিও তারা প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার পরস্পরের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং কোলাকুলির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সংসদের অধিবেশনের মেয়াদ একদিন বাড়িয়েও সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিরোধী দল তাদের প্রস্তাব দিলে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন করে সংবিধান লেখা নয়, বরং জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বিদ্যমান সংবিধানের সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষেই বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মতো বিষয় সংবিধানেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। সংবিধানের কোনো বিধান বাতিল বা সংশোধন করতে হলে সেটিও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করতে হবে।

দেশে গণতন্ত্রের বর্তমান ধারাকে ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ রেখে যাওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজসহ সবার দায়িত্ব রয়েছে।

আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা কীভাবে আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, সংসদে নারী প্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Exit mobile version