ইসরাইলের নির্বাচনের আর মাত্র ৫৬ দিন বাকি। এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্রমশ দুর্বল মনে হচ্ছে, কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা জরিপে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছেন।
ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের জনপ্রিয়তা কমার চিত্র উঠে এসেছে।
নেতানিয়াহু এই নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা চলছে। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।ক্ষমতায় থাকাকে সম্ভাব্য ফৌজদারি শাস্তি থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু। কারণ ইসরাইলের আদালতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে।
নেতানিয়াহুর আশা, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও সরকার গঠন করতে পারবেন। অন্যথায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে তিনি ও বিরোধীরা কেউই জোট গঠন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকতে পারে।
ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে রবিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, এখন নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অনারব বিরোধী দলগুলো পেতে পারে ৫৫টি এবং আরব আইনপ্রণেতারা ১৩টি আসন। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন।
বিরোধী দলগুলো সরকার গঠনে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থন চাইতে পারে। তবে তাদের অধিকাংশ নেতা এখনো এমন জোটের বিরোধিতা করছেন।
এখন সবার নজর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোটের দিকে। তাকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং জরিপে লিকুদকেও পেছনে ফেলেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার ২৪টি আসন পেতে পারে, যেখানে লিকুদের আসন হতে পারে ২১টি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে বেশি যোগ্য-এমন প্রশ্নেও আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন। ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৭ শতাংশ।
নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, ২০২২ সালের শেষ দিকে গঠিত সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১০৪টি অবৈধ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে এবং ১৬০টি কৃষি বসতি চৌকি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর সামনে দুটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর একটি হলো নতুন ডানপন্থী দলগুলোর উত্থান, যা তার ভাষায় হাজার হাজার ডানপন্থী ভোট বিভক্ত করে দিতে পারে। অন্যটি হলো তিনটি আরব দলের জোটবদ্ধ হয়ে ‘জয়েন্ট লিস্ট’ গঠন, যা আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে পারে।
আগের জরিপগুলোতে আরব দলগুলো ১০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও সাম্প্রতিক জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩টি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
ইসরাইলের প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। তাদের বেশি ভোটার উপস্থিতি ছোট ডানপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী সীমা পার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন হারাতে পারে এবং বিরোধীদের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
এ কারণে ডানপন্থী ভোট ভাগ হওয়া ঠেকাতে ছোট দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তিনি ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার পার্টি ও স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টিকে একীভূত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এখন নেতানিয়াহু স্মোট্রিচ ও লিকুদের সাবেক সংসদ সদস্য মোশে ফাইগলিনের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
ইসরাইলি চ্যানেল ২৪ সোমবার জানিয়েছে, নির্বাচনী তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহু স্মোট্রিচ, ফাইগলিন এবং বেন-গভির অথবা ওফার উইন্টারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় ডানপন্থী জোট গঠনে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
চ্যানেলটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লিকুদ নেতার বরাতে জানিয়েছে, পরিস্থিতিটা অনেকটা রাশিয়ান রুলেটের মতো, যা কেউ খেলতে চায় না। আমরা ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সফল হচ্ছি না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
