বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে দলের দুগ্রুপের সংঘাত রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে মিছিল ও গাড়িবহরে বাধা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পৌর সদর ও আশপাশের এলাকা।
একপর্যায়ে বাঁশবাড়িয়া পয়েন্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতাকর্মীরা মিছিল ও গাড়িবহর নিয়ে এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারের সমাবেশস্থলের দিকে আসতে থাকেন। বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মিছিল ও গাড়িবহরে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এসময় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের অনেকে নিরাপত্তার জন্য দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা দাবি করেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. সোহাগ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের অভিযোগ, কাজী সালাউদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। অপরপক্ষের অভিযোগ, এসব ঘটনা তাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে ঘটানো হয়েছে।
সংঘাতের একপর্যায়ে বাঁশবাড়িয়া পয়েন্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাঠ ও বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। বারো আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ওসি মিল্টন আমার দেশকে বলেন, একটি পক্ষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পরে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ ও র্যাব-৭ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের এলকে সিদ্দিকী স্কয়ারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদরের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ডের মাটিতে কোনো উপদলীয় স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না।
