গঙ্গা চুক্তি নবায়নে বিহারের উদ্বেগ আমলে নেওয়ার বার্তা জয়শঙ্করের

বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বিহারের স্বার্থ বিবেচনায় নেবে ভারত সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ কথা জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝাকে লেখা এক চিঠিতে জয়শঙ্কর এ মন্তব্য করেন। ভারত সরকারের কাছে চুক্তিটি নবায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে সঞ্জয় ঝা দাবি করেছিলেন, এটি বিহারের ওপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলেছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে।

চিঠিতে জয়শঙ্কর জানান, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে আলোচনার জন্য জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আপনার উদ্বেগ আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারছি। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক পরিসরে মতবিনিময়ের জন্য জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত এসব আলোচনায় বিহার সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধিও অংশ নিয়েছিলেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

চিঠির জবাবে সঞ্জয় ঝা আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারত সরকার বিহারের স্বার্থ পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায্যভাবে বিবেচনা করবে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঝা বলেন, ‘বিহার কারও করুণা চাইছে না। আমাদের নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে যা প্রমাণিত হয়েছে, আমরা শুধু তার ভিত্তিতেই দাবি জানাচ্ছি, যেন আগামী ৩০ বছরের জন্য রাজ্যের ১৩ কোটি মানুষকে খাবার পানি, সেচ এবং শিল্পকারখানার পানি সংকটে পড়তে না হয়।’

২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিহারের পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সঞ্জয় ঝা। তিনি এর আগেও চুক্তি নবায়নের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছিলেন যে, এটি রাজ্যের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে।

Exit mobile version