সুনামগঞ্জে পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ আসামি পলায়ন, ফেসবুকে লাইভ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরা অবস্থায় এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। পরে ভাঙা হাতকড়ার একাংশ হাতে নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন সে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আসামিকে হাতকড়া পরানোর পর স্বজনদের সৃষ্ট হট্টগোলের সুযোগে সে হাতকড়া ছাড়াই পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে জোর করে তাকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে হাতকড়ার একাংশ ভেঙে ফেলে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দামোধরদপী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটেছে। পলাতক যুবকের নাম আসির মিয়া। তিনি উপজেলার দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা। নিজেকে একজন অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুক লাইভে বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাকে হঠাৎ পুলিশ ঘেরাও করে তার হাতে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে দেয়।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ আসির মিয়াকে আটক করে হাতকড়া পরায়। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার সময় সেখানে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়।

একপর্যায়ে আসামির স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় হাতকড়ার একাংশ ভেঙে যায়। পরে ভাঙা হাতকড়া হাতে নিয়েই আসির মিয়া একটি লেগুনায় উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তিনি হাতে হাতকড়াসহ ফেসবুক লাইভ করেন। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলাতক যুবককে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান ও তল্লাশি শুরু করে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মো. আজির উদ্দিন বলেন, ‘তিনি একটি বিচার-শালিসে ছিলেন। পরে শুনেছেন, আসির মিয়াকে আটকের সময় হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন তার স্বজনরা।’

বিষয়টি অস্বীকার করে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলী উল্লাহ বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ (হাতকড়া) নিয়ে আসামি পালিয়েছে এমনটা সঠিক না। নিয়মিত মামলার আসামিকে আটকের পর মহিলারা একটু ঝামেলা সৃষ্টি করেছিল। তখন সে সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফ ছাড়া পালিয়ে যায়।’

Exit mobile version