পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে এক বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৎস্য মার্কেটের মেয়র বাজারে মাছটি বিক্রির জন্য আনা হলে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। মাছটির ওজন ৩ কেজি ২০০ গ্রাম। পরে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে মোট ১ হাজার ২৮০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়।
জানা গেছে, মাছটি খান ফিসে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়। এর শরীর চ্যাপ্টা ও প্রায় গোলাকার এবং পিঠ ও পেটের পাখনা তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় দেখতে অনেকটা বাদুরের মতো।
মিজান নামে স্থানীয় এক জেলে বলেন, সাগরে বিভিন্ন ধরনের মাছ নিয়মিত ধরা পড়ে। কিন্তু এ ধরনের চ্যাপ্টা ও বাদুরের মতো দেখতে মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না। মাছটি বাজারে আনার পর অনেকেই দেখতে ভিড় করেন।
আরেক জেলে বলেন, আমরা গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ জালে পাই। তবে এই মাছটি দেখতে অন্য মাছের চেয়ে আলাদা। আগে এমন মাছ খুব কমই দেখেছি।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, মাছটির চেহারা ব্যতিক্রম হওয়ায় বাজারে আসার পর ক্রেতা ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত কেজি ৪০০ টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাছটির আকৃতি দেখে প্রথমে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বাদুরের মতো পাখনা থাকায় মানুষ কৌতূহল নিয়ে মাছটি দেখতে আসেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মাছটি লংফিন বাটফিস বা টেইরা বাটফিস নামে পরিচিত। বাংলাদেশ মেরিন বায়োডাইভার্সিটি পোর্টালে এ প্রজাতির বাংলাদেশের উপস্থিতি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর-সম্পর্কিত সামুদ্রিক পরিবেশে নথিভুক্ত রয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, প্লাটাক্স গণের মাছ সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত করতে ছবি ও নমুনা দেখে শনাক্ত করা প্রয়োজন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও এমন একটি মাছ ধরা পড়ার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে সেগুলোর সঠিক পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া সম্ভব।
