জুলাইয়ে গণহত্যা চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আমি গুলি চালানোর অনুমতি দেইনি

ভারতের তিনটি প্রধান সংবাদ মাধ্যম—দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইমস এবং দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস—গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি লিখিত সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘গণঅভ্যুত্থান মোকাবেলার প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। ‘
সাক্ষাৎকারে তিনি সামনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট বর্জনের আহ্বান জানাননি বলে স্বচ্ছভাবে জানিয়ে বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি বর্জনের জন্য আহ্বান জানাইনি। বরং, আমার কথাটা হচ্ছে যদি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে কোটি কোটি ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। ‘
তিনি আরও বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন আমাদের প্রচারণা হবে শান্তিপূর্ণ। বাংলাদেশে আরেকটি সহিংসতা সৃষ্টির কোন দরকার নেই। ’
হিন্দুস্তান টাইমসে তিনি আওয়ামী লীগ নামক নিষিদ্ধ দলের সভাপতির পদ থেকে বললেন যে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তার আশ্রয়ের কারণে।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘ভারতের জনগণের দ্বারা আমাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক গভীর এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে থাকতে পারাটা আমাদের গর্ব। ’
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি আলোচনা করে বলেন,’আমরা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো যাতে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের অধিকার বজায় থাকে। ’
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানা গেছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর সাথে নিজের ভূমিকা নিয়ে হাসিনা বলেছেন,’সহিংসতার প্রতিকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ভুল করেছেন। ’
তিনি যোগ করেন,’যাহোক বলা হচ্ছে যে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব নির্দেশনা দিয়েছি—এটা পুরোপুরি নিরাপত্তাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে একটি মিস ধারণা। আবারও বলছি কোনো অবস্থাতেই আমি নিরাপত্তাবাহিনীকে জনতার ওপর গুলি চালানোর অনুমতি দিইনি। ’





