আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই দিন ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশাল গোলমালের পরিকল্পনা করছেন নিউ টাউনের পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা।
দেশের সন্ত্রাসী, টোকাই ও তরুণদের অর্থশহর মজুদ করে এই কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করতে চেষ্টা করছে তারা। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যেও বিভাজন দেখা দিয়েছে; একপক্ষ বলছে যে, তারা ১৩ তারিখ নজিরবিহীন সহিংসতার মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে চায়, অন্যদিকে একদল পারস্পরিকভাবে গণতান্ত্রিক পথ অবলম্বন করে ধীরে ধীরে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অপেক্ষা করছে। তারা মনে করেন জনগণ যখন আওয়ামী লীগের অপকর্মগুলো ভুলে যাবে তখনই দেশের পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনতে পারবেন। নিউ টাউনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তানভির হাসান মনিরের সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এটি জানা গেছে যে, ভারত সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তারা তিনটি ঘাঁটিও গড়ে তুলেছে। এই অবস্থায় আসল পরিস্থিতি কী হতে পারে সে বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সদস্যরা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ও দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি ভারতের কোনো স্থানে “আত্মগোপনে” বা “পলাতক” হিসেবে রয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ আগামীকাল ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। এ মামলার সহ-অভিযুক্ত বিভিন্ন সাবেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও, যেমন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পলাতক রয়েছেন।
অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে, যার কারণে দলটির নেতারা এখন রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পড়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ১৩ নভেম্বর ঢাকায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়া কিংবা পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নিউ টাউনে (কলকাতা) বসবাসরত কিছু পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ১৩ নভেম্বরে ব্যাপক সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা পুনর্দখলের পরিকল্পনা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাদের উগ্র অংশ রায় ঘোষণার দিন বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে যাতে তারা নিজেদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ জন্য তারা দেশের অভ্যন্তরের সন্ত্রাসী, টোকাই এবং যুবকদের অর্থ ও সম্পদের মাধ্যমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে; এটি মূলত সরকারের পতন ঘটিয়ে জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের একটি কৌশল হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও অন্য এক পক্ষ মনে করে যে এই সময়েই সহিংসতায় লাভের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে, তারা গণতান্ত্রিক পথে ধীরে ধীরে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো যখন পরিস্থিতি শান্ত হবে অথবা জনগণ আওয়ামী লীগের অপkর্মগুলি ভুলে যাবে তখন ফের সুযোগ বুঝে দেশে ফিরে এসে ক্ষমতার মূলধারায় যুক্ত হওয়া – যা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলের উপর আলোকপাত করে৷
সূত্র অনুযায়ী, গোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতার সম্ভাবনা থাকার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশিকা প্রদান করেছে।
অন্যদিকে, ভারতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, ভারতের সীমান্ত এলাকায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তিনটি গ্যারিসন স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রভাব অনেক গভীর। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী আগমন অথবা জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। এতো বড় পরিমাণ সৈন্যের প্রস্তুতি সেই ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে হতে পারে।
মোদি প্রশাসন সবসময় তার নিকটতম প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক থাকে। সীমান্তে এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতির অবস্থা ঢাকার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ভারতের তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। সরকার থেকে অপসারিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ সাপেক্ষে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিতে টানাপড়েন চলমান রয়েছে। ऐसे অবস্থায়, ভারতের সামরিক কার্যক্রম বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসাবে ধরা হতে পারে।
