বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর চেষ্টা

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা, টকশোতে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় এজেন্টের ডেকে এনে খুনিদের নরমালাইজ করা, টকশোতে জাতীয় পার্টির নেতাদের ডেকে আনা, এবং শিক্ষকলীগ নেতাদের জন্য পরিকল্পিত মায়াকান্না দেশের রাজনীতির জন্য একটা অশনীসংকেত।

আনিস আলমগীর, মাসুদ কামাল, পান্না, আব্দুর নূর তুষার, সোমা ইসলামের মতো চিহ্নিত আওয়াামী লীগ-পন্থি সাংবাদিকরা আবারও সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনার একটি পরিকল্পিত স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের গোপন বৈঠক, আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান, টক শোতে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি এবং ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের একটি সুসংগঠিত আয়োজন। যারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সব দলকে সক্রিয় হতে হবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজধানীর যমুনার সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, মিডিয়া হাউসগুলোরও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে

এনসিপি নেতারা বলেন, টেলিভিশন টকশোতে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভারতঘেঁষা হিসেবে পরিচিত কিছু আলোচককে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, শরীফ ওসমান হাদীর আজকের এই পরিণতির জন্য আমাদের সবার দায় আছে। আমরা প্রতিনিয়ত খু’নী হাসিনার এবং তার সন্ত্রা’সী সংগঠনের পক্ষে কাজ করা লোকদের অদ্ভুত কারনে সহ্য করে যাচ্ছি! আজকে থেকে নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্টদের সিম্প্যাথাইজার, তাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারী তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, টকশো জীবী, রাজনীতিবিদ , শিক্ষক , সাংবাদিক এবং এদেরকে প্রমোট করা মিডিয়া হাউজ, পত্রিকা, স্পন্সরদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আশা করছি খুব শক্তভাবে দলমত নির্বিশেষে আপনাদের পাবো।

তিনি আরো বলেন, আনিস আলমগীর, মাসুদ কামাল, পান্না, আব্দুর নূর তুষারদের মতো সাংবাদিকদের মিডিয়াগুলোতে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রতিদিন নানা কায়দায় আওয়ামীলীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করে যাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগকে ছাড়া আমরা চলতে পারবো না। আওয়ামী লীগের এত পার্সেন্ট ভোটার ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়াামীলীগ জোর করেও ৫% ভোটারকে উপস্থিত করে দেখাতে পারেনি।

এ ছাড়া শিক্ষকলীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে আবেগঘন ও সহানুভূতিশীল বর্ণনা তুলে ধরার প্রবণতাকেও পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ বলে মনে করছেন সমালোচকরা। তাঁদের মতে, এসব আলোচনায় ক্ষমতার রাজনীতি, দায়বদ্ধতা ও অতীত কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনার পরিবর্তে মানবিক আবরণে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে কয়েকজন পরিচিত সাংবাদিক ও টকশো উপস্থাপকের নামও আলোচনায় এসেছে, যাঁদের বিররুদ্ধে আওয়ামী লীগঘেঁষা অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন সমালোচকেরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই সময়ে জরিপ, টকশো ও বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তফসিল ঘোষণার পর এই বিতর্ক দেখিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনের পথচলায় শুধু রাজনৈতিক দল নয়, গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও জনপরিসরে আলোচনা ও নজরদারি আরও তীব্র হতে চলেছে।

Exit mobile version