ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

এক তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলোয়াড় তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই সামিউল ইসলাম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সামিউল বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ক্রিকেটার তোফায়েল আহমেদ রায়হানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। সাক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ঠিক করা আছে। ওইদিন অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বিয়ের ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে ওই তরুণীকে একাধিকবার ‘ধর্ষণ’ করেছেন আসামি।

পেস বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলোয়াড়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফেইসবুকে তোফায়েলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে তাদের যোগাযোগ হতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে তোফায়েল ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে তরুণী তাতে সায় দেননি। তখন আসামি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন।

একপর্যায়ে গত ৩১ জানুয়ারি ঘুরে বেড়ানোর নাম করে ওই তরুণীকে গুলশানের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন আসামি। কিছুদিনে মধ্যে বিয়ে করবেন এমন আশ্বাস দিয়ে তোফায়েল পরে একাধিকবার ‘ধর্ষণ’ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ০১ অগাস্ট ওই তরুণী বাদী হয়ে গুলশান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর আসামি তোফায়েল হাই কোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ নির্দেশ দেয়া হয়। তবে সে মেয়াদ শেষ হলেও তোফায়েল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি।

মামলার বাদী বলেন, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে স্থাপন করে তোফায়েল। বিষয়টি সমাধানে তার পরিবারের কাছে গিয়েও ফল পায়নি। ঘটনার একপর্যায়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টকে লিখিত অভিযোগ দিই। তিনি আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। এইভাবে প্রতিনিয়ত পদে পদে অনেকভাবে সম্মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।

Exit mobile version