বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি জেলা হলো খুলনা। এই জেলার কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে থাকে ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা,দাকোপ,রুপসা, কেরখাদা,ফুলতলা,দিঘলিয়া সহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকের মাধ্যমে। চলতি মৌসুমে ব্যাপক ভাবে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকরা পুরোদমে শুরু করেছেন বোরো ধানের চাষ, যা তাদের জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।
এ বছর খুলনা জেলার লক্ষ্য মাত্রা ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা। তবে এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩৫% । জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই আবাদ থেকে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। খুলনা জেলার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে বোরো ধান চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা এখন চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন,যার মধ্যে উন্নতমানের বীজ,সেচ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছেন এবং তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।। জেলা তথ্য অনুযায়ী,প্রায় ৭০-৮০% মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ কৃষির সাথে সরসরি সম্পর্কিত। এদের মধ্যে অনেকেই মূলত ধান, চিংড়ি, তিল, গম, সরিষা, শাকসবজি এবং ফলমূল চাষ করে থাকে। কৃষক মোঃ হালিম বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, বিশেষ করে বীজ,সার ও কীটনাশক এবং সেচের জন্য পানি সরবরাহে সহযোগিতার কারণে বোরো ধান চাষের পরিমাণ বাড়ছে। তবে তাদের জন্য এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে, যেমন পানি সেচের জন্য খাল- বিলের সংস্কার ও বাজারে দাম কম হওয়া। তথ্য অনুসন্ধানে বিভিন্ন উপজেলার কৃষি অফিসারদের সঙ্গে আলাপ কালে জানাগেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, আমরা কৃষকদের মাঝে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে তারা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে। এছাড়া, ফসলের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
যদি বাজারে ধানের দাম ঠিক থাকে, তবে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন। এ বছরের বোরো ধান চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল, এবং এটি ডুমুরিয়া কৃষকদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। ডুমুরিয়াতে এবার ২১ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর জমিতে । তবে আশা করছি এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে,আশা করছি বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে।
তেরখাদা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শিউলি মজুমদার বলেন,চলতি বছরে ৮ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ার লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আশা করছি সব পুরণ হবে। তবে রোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দিঘলিয়া কৃষি অফিসার মোঃ কিশোর আহমেদ জানান,তার উপজেলায় এবছরের লক্ষ্য মাত্রা ৪ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফুলতলা কৃষি অফিসার মোঃ আরিফ হোসেন জানান,চলতি বছরের বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে। অর্জন ১১ শ ৮০ হেক্টর। রোপণ কার্যক্রম চলমান আছে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭শ ২৩ হেক্টর জমিতে।
কয়রা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, চলতি বছরে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮ শ ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে রোপণ কার্যক্রম অব্যহৃত রয়েছে।
রুপসা উপজেলা কৃষি অফিসার তরুন কান্তি বালা জানান,চলতি বছরে তার উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে।
মোঃ একরামুল হোসেন বলেন,চলতি বছরে বেরো ধানের বীজ তলা ২৮০ হেক্টর। বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৫ হেক্টর।
খুলনা জেলার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বোরো ধানের আবাদ বাড়ানোর কারণে খুলনা জেলার কৃষির উন্নতি ঘটেছে।
তারা আশা করছেন, এবারের বোরো ধান থেকে ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। তারা আরও বলেন,জেলার কৃষকদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং তারা সবসময় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য হসযোগীতা করবেন।
