ইসির ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও নিবন্ধন জটিলতার প্রতিবাদে আমজনগণ পার্টির সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, অপেশাদারিত্ব ও উদ্দেশ্যমূলক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি। দলটির দাবি, নিবন্ধনের সকল শর্ত পূরণ এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তে ইতিবাচক প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও ‘অদৃশ্য হস্তক্ষেপে’ তাদের চূড়ান্ত নিবন্ধন সনদ আটকে রাখা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলের সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম। এ সময় জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি গত ২২ জুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। ইসির বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে দলটি একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ২৩টি জেলা ও ১০৩টি উপজেলা কার্যালয়ের তথ্যসহ প্রায় ৫১ হাজার পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ জমা দেয়।

ফাতিমা তাসনিম অভিযোগ করে বলেন, ইসির কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে সব তথ্য সঠিক পেলেও গত ৯ অক্টোবর কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পুনঃতদন্তের নামে জমির দলিল, অফিস মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অপ্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়ে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে, যা অন্য কোনো নতুন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তিনটি দলকে নিবন্ধনের যোগ্য ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও ১৮ নভেম্বর রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টিকে বাদ দিয়ে বাকি দুই দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কমিশনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, কিছু আপত্তির কারণে শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু বিধি অনুযায়ী উভয় পক্ষকে উপস্থিত রেখে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও গত ৮৪ দিনেও সেই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১ ডিসেম্বর নজিরবিহীনভাবে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এ ধরনের গোয়েন্দা তদন্তের কোনো নজির বাংলাদেশে নেই বলে দাবি করে দলটি। তাদের মতে, এটি নতুন রাজনৈতিক দলকে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়ার একটি ফ্যাসিবাদী কৌশল।

দলের সাংগঠনিক শক্তির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়—সারাদেশে বর্তমানে ১২৭টি সক্রিয় কার্যালয় রয়েছে, প্রায় ২৫ হাজার, তালিকাভুক্ত সদস্য দলটির সঙ্গে যুক্ত, নিবন্ধনের জন্য ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে নেতারা বলেন, একদিকে কমিশন বলছে তদন্ত প্রতিবেদন ইতিবাচক, অন্যদিকে অযৌক্তিক বিলম্ব ও সিদ্ধান্তহীনতা দেখাচ্ছে। এটি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের ওপর আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিবন্ধন জটিলতা নিরসনে দলটি প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির নিবন্ধন সনদ প্রদানের দাবি জানিয়ে নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

ফাহাদ মোল্লা

Exit mobile version