রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বছরে জন্ম নিচ্ছে ৩০ হাজার শিশু, বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাম্পে বসবাসরত শিশুদের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। গত আট বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার শিশু।

অতিরিক্ত জন্মহারের কারণে ক্যাম্পে জনসংখ্যার চাপ দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। পরিবার বড় হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা জীবিকার সন্ধানে কাঁটাতার অতিক্রম করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় কম মজুরিতে শ্রম দিচ্ছেন। এতে স্থানীয় খেটে-খাওয়া দিনমজুরদের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অন্যদিকে রোহিঙ্গারা অভিযোগ করে বলছেন, আগের তুলনায় দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে আসছে। ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়ছেন। রেশনসহ মানবিক সহায়তা না কমানোর জন্য দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রায় ৮ হাজার একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে ১৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। এভাবে জন্মহার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন আরও কঠোরভাবে কাঁটাতারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্মহার নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হেল্থ কো-অর্ডিনেটর আবু তোহা এম.আর.এইচ ভূঁইয়া বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্মহার কিছুটা কমেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে যেভাবে দীর্ঘ সময় ধরে সচেতনতা বাড়িয়ে জন্মহার কমানো সম্ভব হয়েছে, একই পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ধাপে ধাপে জন্মহার কমানোর চেষ্টা চলছে। “এটি হঠাৎ করে সম্ভব নয়, তবে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি,” বলেন তিনি।

মনছুর আলম মুন্না

Exit mobile version