মনছুর আলম মুন্না
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী-কুতুবদিয়ার রাজনীতিতে নির্বাচনী মৌসুম মানেই শুধু স্লোগান আর পোস্টার নয়। এই জনপদের মানুষ এখন হিসাব মিলিয়ে কথা বলে। কে কী বলছে, তার পেছনে কী পরিকল্পনা আছে, আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কে দায় নেবে।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ তার নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ইশতেহারের মাধ্যমে সামনে আনছেন এক ধরনের দায়বদ্ধ উন্নয়ন-ভাষা। স্লোগান সবার আগে বাংলাদেশ হলেও, বাস্তবতায় তিনি বারবার ফিরছেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার নির্দিষ্ট সমস্যায়-যোগাযোগ, বেড়িবাঁধ, লবণ, পান, মৎস্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে।
ইশতেহারে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে মহেশখালী কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন এবং কুতুবদিয়া-মহেশখালী নৌপথে আধুনিক ফেরি সার্ভিস চালুর কথা। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা দূর করার এই প্রতিশ্রুতি শুধু যোগাযোগ নয়, অর্থনীতির রক্তসঞ্চালনের কথাও বলে।
উপকূলীয় জনপদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ইশতেহারের আরেকটি কেন্দ্রীয় দিক। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হয়েছে, যা লবণ চাষি, জেলে এবং উপকূলবাসীর অস্তিত্বের প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানে স্থানীয় দক্ষ ও অদক্ষ যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারকে কাগুজে উন্নয়ন থেকে আলাদা করে। একই সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার স্থাপনের ঘোষণাও রাখা হয়েছে।
লবণ চাষিদের ন্যায্যমূল্য, অতিরিক্ত লবণ আমদানি বন্ধে লবণ কমিশন গঠন, এবং মহেশখালীর পানকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি স্থানীয় অর্থনীতিকে কেন্দ্রেই রাজনীতির অবস্থান স্পষ্ট করে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ইশতেহার তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। স্কুল ও কলেজের আধুনিকীকরণ, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ল্যাব, পর্যাপ্ত শিক্ষক তৈরি এবং হাসপাতাল সেবা উন্নয়ন ও অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, ভূমিহীন ও বাস্তুহীনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা, সমুদ্রে ডাকাতি রোধে নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি এবং জেলেদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি উপকূলীয় বাস্তবতাকে সামনে এনে দেয়।
সব মিলিয়ে এই ইশতেহার উন্নয়নের চেয়ে বেশি কথা বলে দায়িত্বের। এখানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন দাঁড়িয়ে আছে মহেশখালী–কুতুবদিয়ার মাটি, লবণঘাট, ঘাটপথ আর সমুদ্রের বাস্তবতার ওপর।
ভোটারদের প্রশ্ন এখন একটাই-এই অঙ্গীকারগুলো কি কাগজেই থাকবে, নাকি সত্যিই এই দ্বীপাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে।
