জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
জিতুর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তবে গত ৩০ জানুয়ারি তারেক রহামনের ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার পোস্ট শেয়ার দেয়ার পর থেকেই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আলোচনায় আসেন জিতু। তবে অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা।
শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন জাকসু বিজয়ী হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গার বিএনপির নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ শুরু করেন জিতু। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের এলাকা শরিয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও তারেক রহমানের সাবেক পিএস নুরুদ্দীন অপুর সাথে যোগাযোগ করেন তিনি।
যদিও জাকসু নির্বাচনের আগে নুরুদ্দীন অপু আব্দুর রশিদ জিতুকে ছাত্রদলের প্যানেলে থেকে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তখন তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। পরবর্তীতে জাকসুতে ভিপি পদে জয়লাভ করার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপিতে) যোগ দেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেন তিনি। নুরুদ্দীন অপুর সাথে যোগাযোগের পর টাঙ্গাইলে-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন টুকুর সাথেও যোগাযোগ করেন জিতু।
পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মধ্যস্থতায় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। বিএনপিতে যোগদানের আগে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.সোহেল আহমেদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেন। এদিকে জিতুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। জাবি শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন আবদুর রশিদ জিতু।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হয়ে ক্যাম্পাসে কিছু দিন কাজ করেন। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বের হয়ে গঠন করেন ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। সেখান থেকে ক্যাম্পাসে নানা ধরনের শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেন জিতু। নির্দলীয় থাকাই ছিল জিতুর জনপ্রিয়তার পেছনের মূল কারণ।
এরপর স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচন করেন জিতু। তার ইশতেহারের মধ্যে অন্যতম ছিল ক্যাম্পাস থেকে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
তবে ভিপির মেয়াদ শেষ না করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা সমালোচনা। কেউ কেউ তার এই ধরনের বদলে যাওয়াকে প্রতারণা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। আবার অনেকে তাকে আগামীর রাজনীতির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
