গাজীপুরে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়লো ১১ কোটি টাকার সড়ক

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় সড়ক নির্মাণের কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙে কয়েক ফুট নিচ পর্যন্ত ধসে পড়েছে। সড়ক উদ্বোধনের আগেই এ ঘটনায় কাজে অবহেলা ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে ঠিকাদারদের কোনো দায় নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ইউসিসিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে বিটুমিনাস কার্পেটিং করার লক্ষ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এরমধ্যে প্যাকেজ নাম্বার ১২-এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের অধিক ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায় কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

আরেকটি প্যাকেজ নং-৫-এর আওতায় ১২,০৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ১৯ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। সেখানে প্রাক্কলিত ব্যয়ের বেশি দরে ১৪ কোটি ২৮ লক্ষ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায় কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। দুটি প্যাকেজের অধীনে রাস্তা বাস্তবায়নের মধ্যে রয়েছে ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, এক দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত এবং রেলিং গার্ড ওয়াল নির্মাণের কথা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহানগরীর কাশিমপুর ৬নং ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় ১,১৫০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় ধনঞ্জয়খালী এলাকায় প্রথমে ফাটল ধরে, পরে সেখানে ভেঙে যায় প্রায় ৪০ মিলিমিটার ধসে পড়ে। এতে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই রাস্তার ঢালাই করা হয়েছে। ঢালাই শেষ হওয়ার ৩ দিন পরই ভেঙে যায় রাস্তা। রাস্তা কয়েক ফুট ধসে পড়ে। এমনকি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়া হয়েছে, যতটুকু ঢালাই দরকার ছিল তাও দেওয়া হয়নি। কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসীরা।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নবনির্মিত সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। অথচ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর শুরু হয়ে চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনের আগে কোনোরকমে সম্পন্ন করা হয় সড়কটি নির্মাণের কাজ, ফলে রাতারাতি ধসে পড়ে সড়কের একটি অংশ। সড়কের এমন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে।

কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীর পাড়ে রাস্তাটা হচ্ছে, এটা ন্যাচারাল ডিজাস্টার। পরিকল্পনার কোনো ত্রুটিও থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলা হবে।

সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ বলেন, সিটি কর্পোরেশনের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখা হয়েছে। তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তাটি অনিয়মের কারণে নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধসে গেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়াও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Exit mobile version