যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশি সহায়তা ছাড়ায় অবশেষ উদ্ধার হল সেই মিনহাজ

মোঃ জুম্মান হোসেনঃ

যশোরে আলোচিত অপহরণ ঘটনার চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হয়েছে অপহৃত সেই তরুণ মিনহাজ। চারদিন আটকে রেখে একের পর এক নির্যাতনের পর সজিব সিন্ডিকেটের ডেরা থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। অসুস্থ্য ও বিধস্ত অবস্থায় তাকে গ্রামেরবাড়ি খুলনার তেরখাদায় নেয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি অপহরণের মুল হোতাই ছিলেন সেই বাস চালক সজিব। যাকে তারা প্রথমেই ধরে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

এমনকি তার কাছথেকেই উদ্ধার করা হয়েছিলো তানজিনের মোবাইল ফোনের সিম। কিন্তু কোতোয়ালি থানার ওসি ছেড়ে দিয়েছিলেন সজিবকে। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

অপহৃত তরুণের বাবা খুলনার তেরখাদা গ্রামের জিয়া মোল্লা জানান, বাসচালক সজিব মোল্লাই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী। সজিব বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজারসহ আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় প্রথমে মিনহাজকে নড়াইল থেকে বাসে তোলে। এরপর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একাধিকবার যশোর–মনিহার রুটে যাত্রীবাহী বাসে ঘোরানো হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মনিহার এলাকা থেকে বসুন্দিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন সকালে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতে গেলে সজিব ধরা পড়ে। তখন তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয় অপহৃত শিশুর মোবাইলের সিমকার্ড। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, থানায় নেওয়ার পরও পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে অন্য একটি নম্বর থেকে আবারও মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে মারধর ও চেতনানাশক খাইয়ে শিশুটিকে খুলনাগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে খুলনা পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মিনহাজকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে শিশুটিকে গ্রামের বাড়ি খুলনার তেরখাদায় নেওয়া হয়েছে।

পরিবার জানায়, মিনহাজকে বাড়ি থেকে হাঁস বিক্রির ২২ হাজার টাকা নিয়ে শহরের জেলরোডে নানাবাড়ি যাচ্ছিল। সেই টাকার লোভেই তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

বাবা জিয়া মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

Exit mobile version