ঈদের নামাজের পর রণক্ষেত্র ফরিদপুর, আহত ৩০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে ঈদের নামাজ শেষ হতেই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে গোপীনাথপুর ও ছোট হামিরদী গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষে অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এ সময় এলাকাটি রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সময় অন্তত ৩০ থেকে ৫০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয় এবং সুযোগ নিয়ে কিছু দুর্বৃত্ত নগদ অর্থ, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই দিন আগে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপীনাথপুর গ্রামের কুদ্দুস মুন্সী ও হাসান মুন্সীর সমর্থকদের সঙ্গে ছোট হামিরদী গ্রামের লিটন মাতুব্বরের লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই রাতেই প্রথম দফায় সংঘর্ষ ঘটে। পরে ঈদের দিন সকালে নামাজ শেষে আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি নিয়েও উত্তেজনা ছিল। এসব বিষয় নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Exit mobile version